কলমে: মুকুট তপাদার, প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে বিদ্যাসাগর মহাশয় সমাজের উন্নতিতে অবদান রাখেন। মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারে সবথেকে বেশি বিদ্যালয় একমাত্র তিনিই নির্মাণ করে গিয়েছিলেন। তিনি সমাজ সংস্কারক, শিক্ষক, গ্রন্থের রচয়িতা, বাংলা গদ্যের পুরোধা, অনুবাদক, ঐতিহাসিক সংস্কৃত প্রেস ও ডিপোজিটরীর প্রতিষ্ঠাতা। উনিশ শতকের কলকাতায় একাধিক শিক্ষামূলক বই তিনি রচনা করেছেন। তাঁর জীবনকালে ‘বর্ণপরিচয়’ ১৫০টির বেশি সংস্করণ হয়। ৩০ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল।

‘রায়গুণাকর’ ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের নবরত্ন সভার কবি। তিনিই ‘অন্নদামঙ্গল’ রচনা করেন। অষ্টাদশ শতকের কাব্যে এসেছিল দেবী অন্নদার মাহাত্ম্য। এই কাব্য সংস্কৃত ভাষায় রচনা হয়েছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অন্নদামঙ্গল কাব্যটি দুটি খন্ডে সম্পাদনা করেন। তবে ১৮১৬ সালে অন্নদামঙ্গল প্রকাশিত করেন প্রথম বাঙালি সাংবাদিক ও সম্পাদক গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। ‘ফেরিস অ্যান্ড কোম্পানীর’ প্রেস থেকে প্রকাশ। ১৮৪৭ সালে বিদ্যাসাগর মহাশয় যে অন্নদামঙ্গল প্রকাশিত করেছিলেন সেটি বাংলা প্রকাশনায় অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
কেমন ছিল সেই সংস্কার? বর্ণমালার সংস্কার, হরপের আকার, প্রাচীন পান্ডুলিপি থেকে গ্রন্থের বিন্যাস, পাঠকদের জন্য ভাষার আধুনিকীকরণ হয়েছিল। এরজন্য তিনি কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে যান। রাজবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ছিল অত্যন্ত সুসম্পর্ক। তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্যের পান্ডুলিপিটি রাজবাড়ি থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর সেটি সম্পাদনা করে ১৮৪৭ সালে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের উদ্যোগে কর্ণওয়ালিশ স্ট্রিটের ‘সংস্কৃত প্রেস’ থেকে মুদ্রিত হয়। সংস্কৃত প্রেসের প্রথম মুদ্রিত বই অন্নদামঙ্গল। মুদ্রণের ইতিহাসে যা এক গুরুত্বপূর্ন সংস্কার।
আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে, আমরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।
